Tuesday, November 25, 2008

মৃৎশিল্প

একদিন মৃৎশিল্প ফিরে আসবে
কলমী লতার আড়ালে
কচুরি পানার সাঁজঘরে
মৃত মাছের মুখগহ্বরে

- যেখানে ম্লান হতেছে উড়ন্ত পাখির কলরব

পোড়া গন্ধে
গভীরতর মাটির ফুসফুস অবধি জেগে উঠবে সুকঠিন নির্মান হাত

সেই হাত হতে ছিন্ন হয়েছে সুমলিন বৈকাল বেলা কড়ে আঙ্গুল জুড়ে
রচিত মাতমে
ধ্বসেছে নিষ্প্রভ শিরোরেখা

সেই হাতের পঞ্চতন্ত্রে অবিকল মৃন্ময়ী প্রসন্নতায় বেগুনী
হতেছে
একাকী এক মৃৎশিল্প এবং
তাহার হাত

চাপা পড়া ইটের আর্তনাদে ধীরলয়ে
একে একে খসাবে অনন্য আবরন
ফিরে আসবে মৃত ঘাসের হলুদ আলপনায়

সে প্রসঙ্গ

১ : অনুভবে
------------

সে চোখ বন্ধ করে নিলে
সহসাই ছুঁয়ে যায়
মিশ্র রং
অথচ আমি দুপুর ঘনালে দেখি অনীল আকাশে
চন্দ্রিমা
ঘনো হয়ে উঠা বায়বীয় সন্ধ্যা

২ : বিরহ
---------
পশ্চিমাকাশ কৃষ্ণচূড়া হতেছে জেনে
কাঁদলে অঝোর ধারায়
আমি নিশ্চুপ ;

স্থানান্তরে
বদলে যেতে দেখি
প্রমত্ত আলোয় একাকী এক মেহেদী হাত

৩ : সমর্পন
-----------

যাকে ভালবাসি তার মগ্নতায়
আজো গ্রহণ ঘটে যায়

চন্দ্রালোকে
সূর্যালোকে -

অতৃপ্ত মননে হেঁটে যায় সুক্ষ মাটির ক্রিয়া
বদলে যায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শোনিত কমলালেবুর স্বাদ

৪ : একাকীত্ব
------------
ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মতো অসীম প্রশস্থতায়

আমি নিজেকেই একাকী
অবিদ্ধ করে ফেলি

সযতনে
সগোপনে

৫ : ভাবনা
-----------
সে কী আজো তেমনতর ছায়ায় এঁকে ফেলে
লাল শাড়ীর লাগোয়া
মসৃন সিঁদুর

সে কী আজো আয়ত চোখে কাজল এঁকে ফেলে
গভীর কালো উষ্ণতায়
একাকী এক আয়তন

৬ পুনশ্চ :
---------
তাকে বলি কবিতাগুলি এমন হয়
তাকে বলতে ইচ্ছে হয় কবিতাগুলি এমনতার আগলে রাখে

তাকে বলা হয় না কবিতার আবহে আমি তাকেই অধিকতর ভালবাসি

সে জানত না

সে জানত না-

ক. সবুজ প্রসাধনে অন্তরীন হয়ে পরা আমার দীর্ঘশ্বাসে একটি দেয়াল জেগে থাকে রাত্রিশেষের প্রশস্থতায়।
খ. অর্ধাংগের সঙগোপনে আমার আমি মৃতবাক হওয়ার প্রলোভনে ছেড়ে যায় হলুদ নদীর স্বচ্ছ জলধারা।
গ. কখনো ভীত হই ; শংকিত হই এবং একা একা মুছে ফেলি ধূসর জলছাপ ।
ঘ. ক্রীড়াসূলভ বাক্যালাপে ক্রমশ ছাইদানি জুড়ে একেঁ ফেলি প্রস্তরনগরীর ধ্বংসাবেশষ।
ঙ. নীল হয়ে যাই বেদনায় ; অতপর নীলাকাশ ছুঁয়ে যেতে কর্নিয়া ভেজাই ।
চ. ইথারে যখন ভেসে থাকে তাহার ডানাগুলো সে জানত না, আমি ক্রমশ নীল মানব হয়ে যাই।

Friday, August 1, 2008

হলুদ প্লাবনে ধ্বসে পড়া ব্সতি

বহু দূর হতে
এক অন্যমনস্ক পথিক
স্বপ্ন বুনেছিল দূর বালিয়াড়ি সীমার শেষ প্রান্তজুড়ে
ছড়ানো হতেছে অজানা বসন্ত।

অস্তযাত্রায় সেই বসন্তের পরিধি পেরিয়ে
দাহ্য জীবন ক্রমশ আকরিক হয়ে এলে
শ্রাবন মেঘের সন্ধ্যা ঘনায়
অংকনে অংকনে

হলুদ প্লাবনে ধ্বসে পড়া পাহাড়ী বসতির
নিম্ন সীমায় মাংসল হতেছে
শতাব্দীর জমে থাকা কাঠিন্য ;

তবুও ক্ষয় হতে থাকে নাভীমূলে
তীব্রতর
এক শিরোরেখা

মৃদু হেসে উঠে

আর
অবিমিশ্র রসায়নে গভীরতর সেই ক্ষত
চুঁয়ে চুঁয়ে
পড়ে নিস্তব্ধ করিডোর

শেষে

নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া সেই অশীতিপর

যাহার উন্নাসিকতায়
ধোঁয়া ধোঁয়া
বৃষ্টি ফোঁটায়
একদিন উপ-দ্বীপ ঘেঁষে সলিল হয়েছে
বিমর্ষ তৈল চিত্র

অথচ মধুরতম আকাঙ্খায় একাকী
এক জলাচর
খুঁজে ফেরে
রুপালী আলোর ছটা
যেখানে অমসৃন ত্বকে
ঘর্ষনে নেমেছিল
বৃষ্টিহীন তৃণভুমি থেমে থেমে

অপরাজিতা আসবে বলে,

কেউ কী ভেবেছিল
যাবতীয় প্রসব বেদনার রেসিপি
জেনে গেছে গাংচিল ;

ঠোঁটে ঠোঁটে ; চয়নে

পথের গহীনে আরো পথ রয়ে গেছে অচলা
উদ্ভ্রান্ত কলাম জুড়ে
চারপাতা

শুণ্য ; শুধুই শুণ্য হলুদাভ সব রঙ

একটি সুবিন্যস্ত চরের আকাঙ্খা

পলিমাটির সৌগন্ধে
হরদম সবুজ ট্রে-র উপর দিয়ে বয়ে যায়
ভাঙ্গনের বিশাল থাবা

কদমাক্ততায় স্বল্পবসনার ছায়া পড়ে
স্লথ : অতি স্লথ স্বপ্নের কাছে
মানুষের এক হাটুঁ জল
অথচ কামান্ধ রাতের পসরায় বানোয়াট হতেছে
চায়ের কাপ; ঝড়ের বাতায়নে ক্রমশ নিম্নমুখী
হয়ে পড়া ইথারে
শীৎকার শুনি ভু-কম্পনের

ক্ষীনকায় লেজ নাড়ে সড়কপথে জ্বলে উঠে
নীল নীল জলীয় সব কিছুর
অরুণাভে বাদামী পাখির পালক
খসে পড়ে

তবুও জেগে উঠে সুবিন্যস্ত চর পতিত ঝোপের আড়ালে-

অস্তাচল

কষ্টেরা একাকী যন্ত্রনায় বসে আছে প্রশস্থ রেস্তোরায়-

কিয়দংশ ইউক্লিডিয় জ্যামিতি হতে
হতে প্রমত্ত নদীর বাঁকে
বার বার আছড়ে পড়তেছে
লো ভোল্টেজে

থেমে যায় তরঙ্গ
নোনা হতে থাকে ত্বকের কার্নিশে ; তথাপি

প্রাচীর সমান উষ্ণতায় উড়ে যায়
শকুনের ডানা প্রতিটি বক্ররেখায়
একটি ছিন্ন-ভিন্ন দেহজ গড় ;
উল্টেছে কফির মগ

-দূর পশ্চিমে এখনও রক্ত লাল
হয়ে থাকে অস্তাচল
ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে নিভেছে
ক্ষীন আলো