Tuesday, April 29, 2008

ঋতুহীনতায় লেখা কবিতা



-অরণ্য

শিকড়

মানুষেরা নিজেদের চুল ছিঁড়ে ফেলে
যখন সড়ক দুভাগ হয়ে উঠে আসে
গাড়ি বরাবর

ত্বকের ওপর ঘাস জমে
বিব্রত মানুষগুলো নিজ নিজ আঙটির ভেতর
দেখে ফেলে চৌবাচ্চার গাঢ় রঙ
ফিকে হওয়া চোখ

জিভের লবণজল বেয়ে বেয়ে গাছ ওঠে
বিমর্ষ মানুষেরা ক্ষয়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর
নিজেদের চোখ খোঁজে

সড়ক উল্টিয়ে খোঁজে
স্বাদহীন জিভের উত্সমুখ

-মাহফুজ কবির

Sunday, April 13, 2008

ক্ষয়িষ্ণু অনুভব

আমি বিদগ্ধ চোখে তাকিয়ে নিচ্ছি
শানিত স্বপ্ন
দহন হতে অন্তর্দহন

লিফটের ভাঁজে ভাঁজে কেঁপে উঠা কামরাঙ্গা স্বাদ
জিভের তালুতে তালুতে ভিজেছে
অনাবৃত স্পন্দনে
শোপিস করে রাখা লিপস্টিক
ফরমালিন মেশানো রসায়নে মিশেছে ততবার

প্রতিবার চোখেরা খুজঁছে পাপমুক্তি ; পবিত্রতার অন্তর্দহন

আমি শোষিত চোখে বার বার শুষে নিচ্ছি
ঔষধ সৌরভ
অনায়াসে

অনায়াসে

যেন একটি ক্ষয় রোগ...

Saturday, April 5, 2008

ক্ষুধাহীন জীবের হ্রাস-বৃদ্ধি

অনুদিত হতেছে যে পর্দা
তার ঘুঙ্গুর শব্দে মাতম জাগছে দেয়ালে, দেয়ালে

এক পশলা বৃষ্টি হন হন করে সরে গেলে শহরের উপকন্ঠ
সবুজ বৃক্ষ জন্মায়

কার্নিশে ; কিচেনে

প্রলম্বিত ফার্ন উচুঁ হতে হতে ছাদ ছোঁয়, বিকষিত বীজ

বীজদানা ; দানবীয় ক্ষিধা খেতে থাকে প্রোটিন
হাড়ের ভেতর দিয়ে সরু তার ছিড়ে যায়
তরঙ্গ অবধি

অর্ধা-অর্ধি স্বপ্নে সকালে আর বিকেলে ভ্রমন দেখি,

আলতো নিয়ন বাতির ঘোরে, শাওয়ারের মলিন ক্ষনে
হাড্ডিসার যদি বলি কিংবা
নীরব

কোন কথায়

মাতম হতেছে টাঙ্গানো জলছাপে; প্রার্থনায়
টিভি পর্দায় ;
বেতারে

ছাপার কাগজে, বৃষ্টিহীন চাই কাল রাজপথ এবং
অসবুজ মাঠ ধরে একেঁ নেবে

অন্ধকার রাতের নিভু আলোয়
ক্ষুধাহীন জীবের হ্রাস-বৃদ্ধি
--------------------

এই লেখাটি এখানেও পাবেন =>

Friday, April 4, 2008

দূরতমা, ভাবছি চলে যাবো

প্রশান্তির মূর্চ্ছনায় মৃত প্রায় মানুষ যেভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে

আমি দেখে নেবো তার সবকিছু

তারপর হেঁটে যাবো খুঁড়ে রাখা মাটির কাছে

ভাবছি তোমাকে একগুচ্ছ নীল দেবো যাওয়ার পথে
অদূরের রাত্রি পেরোতেই পর্দানশীন হতে থাকা
বিছানার কোল ঘেষে নেমে আসতেই মলিন গাউন
মখমলে প্লাবিত রুপকথার হাল ধরে
মৌনতায় ঢেকে দেবো

কালো কালো গন্ধে মাতোয়ারা শোকে
বিমর্ষতা আর নয়
আমি হেঁটে যাবো আকরিক ব্রীজ ধরে
পার হতে পশ্চিমাকাশ ছুঁয়ে যে মেঘ নেমে আসে আলতো
তুমি তার সীমানা ঘিরে নিজের অপচ্ছায়ায় ঘুরে ঘুরে
ফিরে আসবে বৃত্তের পরিধিতে অর্থহীন দ্যোতনায়

নম্রতায় কর্ণিয়াজুড়ে বাদলের ঘনঘটা
শীতের নগরজুড়ে
আমি এঁকে যাবো সারি সারি কৃষ্ণচূড়া সারা পথ দুদিকে যাবে চলে ডিভাইডার বুকে নিয়ে তুমি কাঁদবে নাকি হাসবে ভাবতেই নিজেকে কমলা রোদে পোড়াবে কুয়াশায় ভেঁজাবে নিজের অসময়ের উষ্ণতা

দূরতমা, ভাবছি চলে যাবো
যেদিন রাত্রিবাস হবে অমনিবাশ
যেদিন সকাল হবে কালো ধোঁয়ায়

সবকিছু বদলে গেছে

এক চিলতে রোদ এসে পরতো
ছোটবেলায় যখনি
জানালার ধার ঘেষে
যে গলিটা গেছে দূরতমা
তোমার বাড়ীর সদর দরজায়।

জানালার রড ধরে
একাকী নিজের মত
করে অধীর আগ্রহে।

ভাবতাম কত কি !!!
স্কুলে যাওয়ার পথে পথে
ছিপ ছিপ শরীরে
গুটি গুটি পায়ে
চৌকাঠ পেরোবে।

কৈশোর পেরোনো বিকেলে
লুকিয়ে মাঠে খেলা করা
বরষার ডুবে যাওয়া মাঠে
কাদামাখা আসরে
বন্ধুদের আড্ডায়
প্রতিনিয়ত ফিরে ফিরে
আসা তুমি দূরতমা
ভালেবাসায় আর কল্পনায়।
অসীম কল্পনায় তুমি সেই কিশোরী

হাত ছুঁয়ে দিয়ে গেলে.. ..

ইসস্‌ ইসস্‌ কত গপ্পো বানানো

গপ্পের ফাঁকে ফাঁকে
জ্বলন্ত সিগারেট

শেয়ারে শেয়ারে নিভে যাওয়া।

সব শেষে
সব ভাবনায়
তুমি বেশ কাছে ছিলে দূরতমা।

..
.. .. ..

ত্রিশ বছর পরে
এই মায়াবী সন্ধ্যায়
কিছুই নেই
নেই কোন জানালা
নেই কোন রোদ
নেই হাত; হাতছানি
নেই বিশ্বস্ত চোখ
চোখের স্থির চাহনি।
নেই খোলা মাঠ
নেই সেই কিশোরী।

কিছুই নেই;
সবকিছুই বদলে গেছে,
তবুও আছো তুমি দূরতমা।

মৌনব্রত

শব্দেরা মৌনতায় গেছে !!!

ধ্যানে মগ্ন এক দূরতমা
তাবৎ শব্দ লুকিয়ে রেখেছে
হৃদয়ের গভীরে
নিশ্বাসের পরতে পরতে।

মৌনতায় কমা স্তরে নিয়ে যায়
নিউরন ভেংগে ভেংগে অনুরা
শুধুই ভালোবেসে যায়।

ভালোবাসায় মৌনব্রত সব অনুভূতি
আমার যে কিছুই করার নাই।

শব্দেরা মৌনতায় গেছে
নিয়ে গেছে এক দূরতমা ।